ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দি এশিয়ান বিজনেস ডেইলি।
আরইউএসআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রথম ১৬ দিনেই মার্কিন বাহিনী ১১ হাজার রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের আর্থিক মূল্য প্রায় ২৬ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
এদিকে বিরামহীন বিমান হামলা এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণাত্মক অস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এর মধ্যে ১৯৮টি থাড ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং ৪০২টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল অন্যতম। এসব মূল অস্ত্রের উৎপাদন অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় ফুরিয়ে যাওয়া মজুদ দ্রুত পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
আরইউএসআইয়ের বিশ্লেষণ অনুসারে, যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রায় ৫৩৫টি টমাহক মিসাইল পুনরায় তৈরি করতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। পাশাপাশি অস্ত্র তৈরির জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজ উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের আধিপত্য থাকায় উৎপাদন বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সম্পদের এ বিশাল ‘অপচয়’ আসন্ন নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনমত ক্রমেই নেতিবাচক হয়ে উঠছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে স্থগিত হওয়া সম্মেলনের আগেই এ সংঘাতের একটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখাতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান রণকৌশলের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি দিয়ে কৌশলের অভাব আড়াল করা যাবে না। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ বা শাসন পরিবর্তনের মতো প্রাথমিক লক্ষ্যগুলো অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ব্যবহার করা হয় মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সব অস্ত্র। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টর ও রাডার সিস্টেমগুলো এত দ্রুতগতিতে ব্যবহার হয়েছে যে এরই মধ্যেই মজুদে টান পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১-২৫ সময়কালে বিশ্বজুড়ে মোট অস্ত্র সরবরাহের ৪২ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ এসব মার্কিন অস্ত্রের প্রধান গন্তব্য ছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র আমদানি করেছে।